স্বল্প সময়ে অধিক নয়,অল্প মুনাফাই নিরাপদ

0
(0)

স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার মানুষিকতাই স্বল্প সময়ে অধিক লসের মূল কারন।শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীরা ভিন্ন ভিন্ন মতের অধিকারী।তাই প্রত্যেকের ট্রেডিং সিস্টেমও ভিন্ন ভিন্ন।ট্রেডিং সিস্টেম ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবার উদ্দেশ্য হল একটাই তা হচ্ছে মুনাফা করা।প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন ট্রেডিং সিস্টেম হওয়ার কারনেই একদল বিনিয়োগকারী যে শেয়ারটা যে রেটে বিক্রি করছে আরেকদল বিনিয়োগকারী ওই শেয়ারটা ওই রেটেই কিনছে।ক্রেতা এবং বিক্রেতা এই দুদলের মধ্যে একদল বিজয়ী হয় আরেকদল পরাজিত হয়।এখানে লক্ষ্যনীয় যে,একটি আইটেমে ক্রেতা বিক্রেতা ফিফটি ফিফটি।অর্থ্যাৎ ৫০% বিনিয়োগকারী বিজয়ী বাকি ৫০% বিনিয়োগকারী পরাজিত।অতএব বোঝা গেল যে,৫০% বিনিয়োগকারী সঠিক সময়ে সঠিক আইটেম বাই বা সেল করার কারনে বিজয়ী হল আর ৫০% বিনিয়োগকারী ভুল ট্রেড করার কারনে পরাজিত হল।এখান থেকে এই বিষ্যটা স্বীকার করতে হবে যে,প্রত্যেকটা ট্রেডে ৫০% বিনিয়োগকারী ভুল করে থাকে।ভুল ট্রেডিংয়ের অন্যতম কারন হচ্ছে লোভে পড়ে স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনের মানুষিকতা,টেকনিক্যাল এনালাইস না বোঝার কারনে স্টপ লস প্রয়োগ না করা,১৫%-২০% পুজি হারানোর পর পেনিক হয়ে শেয়ার সেল দেয়া,প্রফিট হলেও আরো প্রফিটের আশায় সঠিক সময়ে প্রফিট না নেয়া,সিলেক্টেড আইটেমটির কখন কোন কোয়ার্টারের ইপিএস আসবে,কখন ডিভিডেন্ডের ঘোষনা আসবে,ভাল আসতে পারে নাকি খারাপ আসতে পারে এই সম্পর্কে ধারনা না থাকা সত্বেও ওই আইটেমে এন্ট্রি দিয়ে নো ডিভিডেন্ড বা খারাপ ইপিএসের কবলে পড়ে লোকসান করা।মুলত উল্লেখিত বিষয় গুলোর প্রতি মনযোগী না হয়ে লোভে বা পেনিক হয়ে ইমোশনাল বাই সেলের কারনেই ৫০%বিনিয়োগকারী ট্রেডিংয়ে লস করে থাকে।এই সমস্থ ভুল ট্রেডিং থেকে উত্তোরনের একমাত্র পথ হচ্ছে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া,পেনিক বা লোভের বশবর্তী না হয়ে বাই সেল করা।শেয়ার বাজারে সফলতার অন্যতম উপায় হচ্ছে স্বল্প সময়ে অল্প অল্প প্রফিটের টার্গেট করে নিরাপদ বিনিয়োগ করা।কিন্তু আমাদের বাজারের বিনিয়োগকারীরা স্বল্প সময়ে অল্প নয় সল্প সময়ে অধিক মুনাফার টার্গেট করার কারনেই উল্টো স্বল্প সময়ে অধিক লস করে থাকেন।যারা স্বল্প সময়ে অধিক লাভ করার মানুষিকতা নিয়ে বিনিয়োগ করেন তারা স্বল্প সময়ের বিনিয়োগ করতে গিয়ে আটকা পড়ে দীর্ঘ বিনিয়োগ করেও অল্প প্রফিট নিয়েও বের হতে পারেন না।এমন কিছু আইটেম থাকে যে গুলো এক জায়গায় দীর্ঘদিন ঘুরপাক খায়।ওই আইটেম গুলোতে বিনিয়োগ করলে ২০-৩০% প্রফিট হবে এটাও সবাই জানে।কিন্তু কখন ওই আইটেম গুলো রান করবে সেটা না জানার কারনে স্বল্প মেয়াদী বিনিয়োগকারীরা ওই আইটেম গুলোকে স্লো আইটেম আখ্যা দিয়ে বাই না দিয়ে এড়িয়ে যায়।স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা লোভীরা শুধু রানিং আইটেমের পেছনে দৌড়ায়।তবে রানিং আইটেমের সূত্র জানে না।রানিং আইটেমের সূত্র হল স্বল্প সময়ের জন্য এন্ট্রি দিয়ে স্বল্প মুনাফা অথবা স্বল্প স্টপ লস দিয়ে বেড়িয়ে যাওয়া নতুবা স্বল্প সময়ে অধিক লসের ঝুকি থাকে।স্বল্প সময়ে স্বল্প প্রফিটের আইটেম হল রানিং আইটেম।অর্থ্যাৎ যে আইটেম অধিক ভলিওম পেয়ে ৫%-১০%বেড়ে গেছে।এটাকে রানিং আইটেম বলে।৫%বেড়ে যাওয়ার পর বাই দিলে ১০% প্রফিটের আশা করতে হয় আর ৫% স্টপ লসের টার্গেট করতে হয়।১০% বেড়ে যাওয়া আইটেমে এন্ট্রি দিলে স্বল্প সময়ে ৫%প্রফিট এবং ১০%স্টপ লসের টার্গেট রাখতে হয়।কিন্তু আমাদের অধিকাংশ বিনিয়োগকারীরা ১০%বেড়ে যাওয়া আইটেমে এন্ট্রি দিয়ে ২০% প্রফিটের আশা করে।তাই ৫%-১০% প্রফিট নেয় না একদিন আইটেমটি কেনা দরে চলে আসে।তারপর আইটেমটি রানিং থেকে স্লো হয়ে ডাউন হতে থাকে কিন্তু তারা ৫%নামার পরও স্টপ লস প্রয়োগ না করে হোল্ড করে বসে থাকে।১৫%-২০% কারেকশন হওয়ার পর যখন আইটেমটি রান করার সময় হয় তখন ২০% পুজি হারানোর পেনিকে লসেই সেল দিয়ে বেরিয়ে যায়।এভাবেই স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা যারা চায় দীর্ঘ মেয়াদেও তারা অল্প মুনাফাও পায় না।

Rate This

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!