শেয়ার বাজারের সবকটি সূচক নিরাপদ জোনে। ইতিবাচক ধারায় ফেরার প্রত্যাশা।

3.2
(5)

এম,এম,আর কামরুল : সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসই এক্স উত্থানে ওপেন হয়ে পতনে ক্লোজ হয়েছে। ডিএসই চার্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে দশটায় ডিএসই এক্স ইনডেক্সটি ৪৫১৪.৪৫ পয়েন্টে ওপেন হয়ে ক্রয় চাপে ঊর্ধমুখী প্রবনতায় লেনদেন শুরু হয়। ওপেনিং থেকে ক্লোজিংয়ের আগ পর্যন্ত ইনডেক্সটি মাত্র ২০ পয়েন্ট আপ-ডাউন করতে দেখা যায়। দিনের অধিকাংশ সময় ইনডেক্সটি ওপেনিং পয়েন্টের খুব কাছাকাছি থেকে ধীরগতিতে লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ রবিবার ডিএসই এক্স ইনডেক্সটি সারাদিনই সাইডওয়েতে অবস্থান করে কোনদিকে মুভ করবে সেই পথ খুঁজতেছিল। মার্কেট ক্লোজ হওয়ার ১০ মিনিট আগে নেটিংয়ের এডজাস্টিং সেল প্রেশারে বেলা ২ টা ২০ মিনিটে ইনডেক্সটি দ্রুত নেমে যায়। ফলে দিনশেষে ১৫.৯৫ পয়েন্ট হারিয়ে ডিএসই এক্স ইনডেক্সটি ক্লোজ হয়েছে ৪৪৯৮.৪৯ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে ক্লোজিং প্রাইস অনুযায়ী দর বেড়েছে ১০০ টি, কমেছে ২০৫ টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১ টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর। উত্থান পতন শেয়ার বাজারের চিরাচরিত নিয়ম। গত কয়েকদিন টানা পতন হয়েছে, গত দু কার্যদিবস মার্কেট সাইডওয়েতে ছিল, গতকাল কিছুটা পতন হয়েছে। যা কিছু হচ্ছে এসবকিছুই স্বাভাবিক এবং বাজারের নিজস্ব গতিতেই হচ্ছে। চার্টের ইনডিকেটর গুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ ইনডিকেটর Oversold জোনে অবস্থান করছে। অতিরিক্ত বিক্রয়চাপে দরপতন হলেই ইনডিকেটর গুলো Oversold জোনে চলে আসে। তারপর ধীরেধীরে বিক্রয়চাপ কমে যাবার কারণে লেনদেন কমে যায়। এদিকে ইনডিকেটর গুলো Oversold জোনে আসলে একদিকে যেমন বিক্রয়চাপ কমে যায় অপরদিকে কোম্পানি গুলো আকর্ষণীয় দরে নেমে আসায় ক্রয়চাপ বেড়ে মার্কেট ঊর্ধমুখী ধারায় ফিরে যায়। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, চলতি ডিসেম্বর মাস হচ্ছে অধিকাংশ বড় বিনিয়োগকারী বা বেশকিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ক্লোজিং মাস। এসব বিনিয়োগের একটা অংশের ক্লোজিং সেল প্রেশারে ডিসেম্বর মাসে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে থাকে। অপরদিকে শীত মৌসুমে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাণিজ্য কমে যায়, ফলে শীতকালে শেয়ার বাজারে মৌসুমি ব্যবসায়ীর আবির্ভাব ঘটে লেনদেন বেড়ে যায়। এদিক থেকে ধারণা করা যায়, সামনে লেনদেন বৃদ্ধি হতে পারে। ক্যান্ডেলষ্টিক প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েকমাস ধরেই ডিএসই ইনডেক্সটি হেডেন সোল্ডার তৈরি করতে করতে নিচের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। সেই দিক থেকে গত কয়েকদিনের পতনে সোল্ডার তৈরি করেছে। সামনে হেডেন ( মাথা) তৈরি করতে হলে ইনডেক্স কয়েকদিনের জন্য হলেও ঊর্ধমুখী থাকতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে বাজার বিশ্লেষণে বলা যায়, পতনের স্টিমার দুর্বল হয়ে পড়েছে,বিপরীতে উত্থানের স্টিমার দিনদিন শক্তিশালী হচ্ছে। সুতরাং সামনে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও ইনডেক্স ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষমতা অর্জন করবে।

Rate This

Average rating 3.2 / 5. Vote count: 5

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!