শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে বিনিয়োগের লাগাম ছেড়ে দিয়ে আগের আইনে ফিরে যাওয়ার বিকল্প নেই।

0
(0)

2015_12_20_21_16_17_tDa7rR2YZXABhhGJpghSZ55jwUcJ5h_originalবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের বৈদেশিক মুদ্রা চুরির নিউজের প্রভাবে টানা পতনের পর আজ বাজারে লেনদেন ও সূচক বেড়েছে।লেনদেন এবং সূচক বাড়লেও বাজার ঘুরে দাড়িয়েছে বা স্বাভাবিক হয়ে গেছে সে কথা বলার সুযোগ নেই।গতকাল এবং আজকের বাজার বিশ্লেষন করলে দেখা যায় বাজারের ইনডেক্স টেকনিক্যালি ডাউনট্রেন্ডে ছিল ফলে গতকাল সকালে ব্যাপক পতনের আভাস দিচ্ছিল কিন্তু হটাৎ করে বিএমবি অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করবে বলে নিউজ আসে।সেই নিউজে হাত গুটিয়ে বসে থাকা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সেন্টিমেন্টালে বাজার ঘুরে যাবে বলে আশা জাগায়।ফলে গতকাল দিনশেষে হারানো সূচক কিছুটা পুনঃরোদ্বার হয়।গতকাল সকালে ব্যাপক পতন হয়ে বিকালে হারানো সূচকের বড় একটি অংশ পুনঃরুদ্বার হওয়ায় টেকনিক্যাল ক্যান্ডেলের নীচে একটি লম্বা শ্যাডো দেখা যায়।গতকালের ওই লম্বা শ্যাডো আজকের বাজার ঘুরে দাড়ানোর পূর্বাবাস ছিল।তাই হয়তঃ আজ সূচক কিছুটা বেড়েছে কিন্তু এই বাড়া সেই বাড়া নয়! ইনডেক্সের এই বৃদ্বি হচ্ছে সেন্টিমেন্টাল নিউজে কৃত্রিম সাপোর্ট।কৃত্রিম কোনো কিছুই স্থায়ী নয়।

তাই বাজার আজকের বৃদ্বির কারনে পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে গেছে সে কথা ভাবার সুযোগ নেই। ২০১০ থেকে দেখে আসছি।সেই ২০১০ এর মহা পতনের পর থেকেই কর্তা ব্যক্তিরা বাজারকে স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছেন।তাদের পদক্ষেপের সেন্টিমেন্টাল নিউজে বাজার ২/১ দিন ইনডেক্স কৃত্রিম বাড়লেও আবার যেই কপাল সেই হাঁটু ! ঘোড়ার লাগাম বেঁধে রেখে ঘোড়াকে যতই চাবুক মারা হোক চাবুকের চোটে একজায়গায়ই ঘুরবে ঘোড়া সামনের দিকে এগুতে পারবে না।আঘাতের কারনে একসময় মাটিতে যে পড়বে আর উঠে দাঁড়ানোরও শক্তি পাবে না।বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ার বাজারের লাগাম বেঁধে রেখেছে।২০১০ সালে পতনের পর থেকে বাজারকে স্বাভাবিক করার নামে বিভিন্ন নীতিমালা প্রনয়ন করে বার বার বাজারকে চাবুক মারা হচ্ছে।কিন্তু বাজারতো এগুচ্ছে না ! বরং দিন দিন ইনডেক্স এবং বাজার মূলধন হারিয়ে উপরের দিকে উঠার শক্তি হারাচ্ছে।লাগাম বেঁধে রেখে বাজারকে উপরে উঠানোর যত চেষ্টাই করা হোক কোনো লাভ হবে না সবই হচ্ছে অপচেষ্টা।ডায়রিয়া হলে মাথা ব্যাথার ওষুধ দিয়ে যেমন কাজ হবে না তেমনি বাজারের সঠিক রোগটি নির্নয় না করে ওষুধ দিলে সেই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় বাজারকে দুর্বল করে নীচের দিকেই টানবে।বাজারকে গতিশীল করতে হলে বাজারের লাগাম ছেড়ে দিতে হবে তবেই বাজার সামনের দিকে দৌড়াবে।অর্থ্যাৎ যে প্রজ্ঞাপন জারীর কারনে ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন শুরু হয়েছিল সেই নীতিমালা সহ ২০১০ সালের পর থেকে যেসব নতুন নীতিমালা প্রনয়ন করা হয়েছে সবকিছু বাতিল করে ২০১০ সালের আগের নীতিমালায় ফিরে গেলেই বাজার আগের মতই দৌড়াতে পারে।অন্যতায় যত ওষুধই দেয়া হোক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় বাজার আরো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

Rate This

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!