বিনিয়োগকারীদের আস্থা মজবুত করতে কারেকশন শেষে আগামীকাল মার্কেট ঘুরে দাঁড়ানো জরুরী।

0
(0)

বাজার বিশ্লেষণ :- দেশের শেয়ার বাজারে সপ্তাহের শেষদিন বৃহস্পতিবার উত্থান দিয়ে শুরু হয়ে পতনে শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসই ইনডেক্স বেশ কয়েকবার উত্থান পতন ঘটে দিনশেষে আগের দিনের চেয়ে ডিএসই ব্রড ইনডেক্সটি ২০.১২ পয়েন্ট হারিয়ে ক্লোজ হয়েছে ৫৮১৩.১৪ পয়েন্টে। এ নিয়ে ইনডেক্স কমেছে টানা তিনদিন। এর আগে টানা ৫ কার্যদিবস ইনডেক্স উত্থান হওয়ায় চলমান পতনকে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হিসেবে সাময়িক পতন হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। কেননা সম্প্রতি টানা পতনের সময় ইনডেক্সের সাথে পাল্লা দিয়ে কোম্পানি গুলোর গণহারে দরপতন হলেও গত তিন কার্যদিবসের পতনে এরকম অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়নি। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলমান নেতিবাচক মার্কেটেও কোনো না কোনো সেক্টর বা নির্দিষ্ট পেইড আপের শেয়ার দর লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এটা নেতিবাচক মার্কেটের ইতিবাচক লক্ষণ। অর্থাৎ গণহারে পতন না হয়ে সেক্টর বা পেইড আপ অনুযায়ী গেইন হলেও কারেকশন থেকে যেকোনো সময় মার্কেট ঘুরে দাঁড়াতে পারে। খুব শীঘ্রই মার্কেট ডাউনট্রেন্ড কাটিয়ে আপট্রেন্ডে যাবে বলে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা। তবে টেকনিক্যাল এনালিস্টদের কাছে আগামীকালের বাজার খুবই গুরুত্ববহন করে। টানা তিন কার্যদিবস মূল্য সংশোধনের পর আগামীকাল সপ্তাহের প্রথমদিন বাজার কেমন যায় সেটাই দেখার বিষয়। দুর্ভাগ্যবশত আগামীকালও যদি মার্কেট পতনে যায় তাহলে বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা সংশয় উকি মারতে পারে। ইনডেক্স ও টার্নওভারে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে বিনিয়োগকারীদের মনে সংশয় তৈরি হয়,সেই সংশয় থেকে পেনিকে মার্কেট নিন্মমুখী হয়ে থাকে। ইতিপূর্বে যতবারই মার্কেট পতনে গেছে উত্থান থেকে কারেকশন, সেই কারেকশন দীর্ঘায়িত হয়ে দীর্ঘ পতনে রূপান্তর হয়েছে। দীর্ঘ পতন শেষে কয়েকদিনের টানা উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আস্থা তৈরি হয়েছে তা মজবুত করতে আগামীকাল থেকে মার্কেট ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই।
গত বৃহস্পতিবারের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই ব্রড ইনডেক্স ৫৮৩৩.২৬ পয়েন্টে ওপেন হয়ে দিনের সর্বোচ্চ ৫৮৫৬.৭৭ পয়েন্টে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে দিনের সর্বনিম্ন ৫৮০৭.৬১ পয়েন্টে নামে এবং দিনশেষে আগের দিনের চেয়ে ২০.১২ পয়েন্ট হারিয়ে ক্লোজ হয়েছে ৫৮১৩.১৪ পয়েন্টে। ফলে ডিএসই চার্টে বেয়ারিশ ক্যান্ডেল তৈরি হয় যা ডাউনট্রেন্ডে অবস্থান করছে বলে নির্দেশ দেয়। ওইদিন বাজারে সার্বিক লেনদেন হয়েছে ৫৫৩ কোটি টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানি গুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৩ টি, কমেছে ২২৯ টি এবং অপরিবর্তিত আছে ৩৮ টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর।
বৃহস্পতিবার ০-১০ কোটি টাকার পেইড আপ শেয়ারের চাহিদা ছিল ৫২.৯৪%, পিই রেশিও ১০০ এর উপরে থাকা কোম্পানি গুলোর চাহিদা ছিল ৪৪.৬৪%, জেড ক্যাটাগরিতে আগ্রহ ছিল ২৬.১৯%, ১০০ থেকে ২০০ টাকা মূল্যের শেয়ারে আগ্রহ ছিল ৪৩.২৪%, ৪০ থেকে ৫০% পাবলিক হোল্ডিং শেয়ারে আগ্রহ ছিল ২৮.৮১% এবং ২০ থেকে ৩০% ইনষ্টিটিউট হোল্ডিং শেয়ারে আগ্রহ ছিল ২৬.২৫%।
বাজারের সর্বশেষ Rsi 53.33, Mfi 68.97, MACD Diff 14.24।

Rate This

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!