যে কারনে বাজার গতি পাচ্ছে না!

0
(0)

car-mechanic-working-auto-repair-service-professional-35581655 শেয়ার বাজার গত কয়েকদিন যাবত MACD সিগন্যাল লাইন ক্রস করে আপট্রেন্ডে গিয়েও দিনশেষে সাইডওয়েতে অবতরন করে।বিমান যেমন রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে আবার রানওয়েতে জরুরী অবতরন করে শেয়ার বাজারও ঠিক একই আচরন করছে।প্রায় প্রতিদিনই ইনডেক্স MACD সিগন্যাল লাইন ক্রস করে কিছুক্ষনের মধ্যেই আবার নীচে নেমে আসছে।কোনোভাবেই উর্ধমুখীতা স্থায়ী হচ্ছে না।আমরা কম বেশী সবাই জানি যে বাজারে কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে কিন্তু সেই সমস্যাটি এড্রেস করে সঠিক সমাধান করা যাচ্ছে না বিধায় আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।আস্থাহীনতার কারনেই কোনো শেয়ারের দর একটু বাড়লেই সেল প্রেসার বেড়ে যায়,যার প্রভাবে ইনডেক্সে অস্থিরতা বিরাজ করছে।ডাক্তার যদি রোগীর সঠিক রোগ নির্নয় করতে না পারে যত ওষুধই দিক না কেন আরোগ্য লাভ হবে না বরং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় আরো নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হবে।শেয়ার বাজারেও মুল সমস্যাটি খুজে বের করতে না পারলে যত চেষ্টাই করা হোক না কেন ভাল হওয়ার বদলে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং হয়ে আসছে।অর্থনীতির সূত্র বলছে -যোগান বাড়লে চাহিদা কমে আর চাহিদা কমলেই দর কমে।আমাদের শেয়ার বাজারে গত ৫ বছর যাবত যোগান (আইটেম) বাড়তেছে কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা (লেনদেন) বাড়েনি বরং কমতেছে।অর্থনীতির সূত্র যদি মানেন তাহলে অবশ্য মার্কেটের মুল সমস্যা এটাই হতে পারে।গত ৬ বছর আগে মার্কেটে আইটেম ছিল আড়াইশ তখন আড়াইশ আইটেমে লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকা অর্থ্যাৎ যোগান কম ছিল তাই চাহিদা বেড়েছিল তাই আইটেম গুলোর দর বেড়েছিল আর দর বাড়ার কারনে ইনডেক্সও হু হু করে বাড়ছিল।এখন প্রতি মাসে নতুন নতুন আইটেম মার্কেটে ঢুকছে,কিন্তু সেই তুলনায় মার্কেটে নতুন টাকা ডুকছে না বরং প্রাইমারী ব্যবসায়ীরা সেকেন্ডারী ব্যবসায়ীদেরকে শেয়ার ধরিয়ে দিয়ে সেকেন্ডারী মার্কেটের টাকা নিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে।একদিকে সেকেন্ডারী মার্কেটের টাকা বের হচ্ছে অন্যদিকে পুরাতন শেয়ারের টাকা এসে নতুন শেয়ারে ঢুকে পুরাতন শেয়ারের চাহিদা,টাকা কমিয়ে দিচ্ছে ।এতে সেকেন্ডারীতে যোগান বাড়লেও চাহিদা কমছে,টাকা কমছে এর ফলে মার্কেটে গতি পাচ্ছে না বলেই আমার মনে হচ্ছে।যোগান বাড়ানো যত সহজ চাহিদা বাড়ানো সহজ নয়।কারন যোগান হচ্ছে কতৃপক্ষের হাতে আর চাহিদা হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের হাতে।অতএব চাহিদা বাড়াতে হলে আস্থা ফিরিয়ে এনে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষন বাড়াতে হবে।আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে হয়তঃ যোগান কমিয়ে চাহিদা বাড়াতে হবে নতুবা যোগানের সাথে সমন্বয় করে মার্কেটে টাকা ঢুকাতে হবে।এটা শেয়ার বাজার এখানে ইচ্ছা করলেই কোম্পানী লিষ্টেড করে যোগান বাড়ানো যায় কিন্তু ডিলিষ্টেড করে যোগান কমানো সহজ নয়।অতএব মার্কেটে নতুন টাকা ঢুকানো ছাড়া কোনো বিকল্প দেখছি না।২০১০ সালের পর মার্কেটে যে আইটেম গুলো লিষ্টেড হয়েছে সেই আইটেম গুলো মার্কেটে না আসলে নিউ আইটেম গুলোর টাকা পুরাতন আইটেম গুলোতে লেনদেন হত।আইটেমে লেনদেন বেশী হলে অবশ্যই দর বাড়া কমায় গতি থাকত।কিন্তু নিউ আইপিও লিষ্টেড হয়ে পুরাতন আইটেমের টাকা বন্টন হয়ে সেই গতি কমিয়ে দেওয়ায় কোনো আইটেমই আর বাড়তে পারতেছে না।যার প্রভাব ইনডেক্সেও দেখা যাচ্ছে।ঘন ঘন চারা লাগালে গাছ বাড়তে পারে না।কারন একটি গাছে যতটুকু সূর্যের আলো এবং ভিটামিন দরকার অন্য গাছের কারনে সেটা পায় না তাই ঘন গাছ বড় হয় না।১০০ জন লোকের খাবার ৪০ জনকে দিলে সব খাবার খেতে পারবে না।৪০ জন ৪০ জনের পরিমান খাবার খাবে বাকি ৬০ জনের খাবার পচে যাবে।এটাই স্বাভাবিক।বাজারে ৩০০+ আইটেম আছে।প্রতিটা আইটেমের গড়ে ৩ কোটি শেয়ার হলে ৯০০ কোটি + শেয়ার আছে।৪০০ কোটি টাকা দিয়ে ৯০০ কোটি শেয়ারকে সাপোর্ট দেয়া যায় না।এই সাপোর্টের অভাবেই সম্ভবত শেয়ার গুলো দিন দিন তলানীতে নেমে আসছে।

Rate This

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!