পরিবেশ ও নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে সাহয়াম গ্রুপ

3.3
(3)

এম,এম,আর কামরুল : শতভাগ রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান সায়হাম গ্রুপ অব ইন্ড্রাষ্ট্রিজ পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়ে আপোষহীন। সায়হাম পরিবারের প্রত্যেকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে এক্ষেত্রে বিশ্বের উন্নত দেশের মানদন্ডকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো বাতাস, শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার, শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বাগান গড়ে তুলা, চলাচলের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত রাস্তা, প্রত্যেকটি ইউনিটকে সর্বশেষ কম্পিউটারাইজড হিসাবে গড়ে তোলা, এন্ট্রি স্মুকিং জোন, আকষ্মিক বিপদে ব্যবহারের জন্য প্রায় ৮ লাখ গ্যালন পানি ভূগর্ভস্থে প্রতিনিয়ত জমা রাখা, শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত পানিকে কয়েকটি পর্যায়ে পরিশোধিত করে পরিবেশকে অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হচ্ছে না বলে জানালেন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ।

বাহিরে বিশাল বিশাল বাগান, যেখানে রয়েছে পরিবেশ বান্ধব গাছ, সুপ্রশস্থ রাস্তা, বুঝার কোনো উপায় নেই ভেতরে কাজ করছে হাজার হাজার নারী পুরুষ শ্রমিক। প্রত্যেক শ্রমিকের প্রবেশ ও বহিগর্মণ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কম্পিউটারে। বিশাল শিল্প এলাকার ভেতরে বাহিরে কোথাও ধূমপানের কোনো সুযোগ নেই, সাথে সাথে এলার্ম বেজে উঠার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। ১৯৮১সালে ৬ একর জমিতে গড়ে উঠা সায়হাম টেক্সটাইল মিলস এখন বহুগুন বেড়ে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিতে ভরপুর এক পরিপূর্ণ শিল্প গ্রুপ। সুতা তৈরী থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি পোষাক তৈরী হয় সেখানে। যা দেশে নয় বিদেশে রপ্তানী করা হয়ে থাকে। ১৯৮১ সালে গড়ে তুলা সায়হাম শিল্প প্রতিষ্ঠান ১৯৮৮ সালে শেয়ার মার্কেট এর তালিকাভূক্ত হয়। দেশের বাজারে পণ্য বিক্রি করা হলেও ১৯৯১ সাল থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে। ২০০২ সাল থেকে শতভাগ রপ্তানী মুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত হয় সায়হাম গ্রুপ। তখন ৩৫ হাজার স্পিন্ডল বিশিষ্ট সায়হাম কটন মিলস গড়ে তুলা হয়। ২০০৬ সালে গড়ে তুলা হয় ৩১ হাজার স্পিন্ডল বিশিষ্ট ফয়সল স্পিনিং মিলস, ২০০৯ সালে সায়হাম নীট কম্পোজিট গড়ে তুলা ছিল সায়হাম পরিবারের অন্যতম স্বপ্নের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি এতোটাই পরিবেশ বান্ধব ও নিরাপত্তাবেষ্টিত যে প্রতিষ্ঠানটি এউএসজিবিসি গ্রিন প্রজেক্ট এর স্বীকৃতি পায়। গ্রিন প্রজেক্ট স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে বাংলাদেশে হাতে গুনা কয়েকটি। এর মধ্যে সায়হাম গ্রুপ একটি।

২০১১ সালটিও ছিল সায়হাম পরিবারের জন্য মাইল ফলক। রাইট শেয়ারের মাধ্যমে প্রায় ৩১ হাজার স্পিন্ডল বিশিষ্ট মিলাঞ্জ ইউনিট সুতার মিল, ৩৩ হাজার স্পিন্ডাল বিশিষ্ট সায়হাম কটন মিলস ইউনিট-২ গড়ে উঠে এ বছরই। শিল্প মালিকদের যেখানে ঢাকামুখী প্রবনতা লক্ষ্য করা যায় সেখানে ১৯৮১ সালেই সায়হাম শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল গ্রাম মুখী। শিল্প মালিকদের কেউ কেউ তখন টিপ্পনি দিয়েছিল যে, খারাপ কোনো মতলবে শিল্প প্রতিষ্ঠানটি গ্রামে গড়ে তুলা হয়েছে। সায়হাম শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ ফয়সল জানালেন ভিন্ন কথা। তার বাবা সৈয়দ সঈদ উদ্দিনের উদ্দেশ্যই ছিল তিনি তার গ্রামকে শহর বানাবেন। গ্রামের মানুষকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে তুলবেন। কথায় নয় কাজে তিনি প্রমাণ করে গিয়েছেন। ৪০ বছর পর আজ গ্রামকে শহর বানানোর যে কথা রাষ্ট্র বলে আসছে, তা সৈয়দ সঈদ উদ্দিন ৪০ বছর আগেই অনুধাবন করেছিলেন। ৪০ বছর আগ থেকে যদি সৈয়দ সঈদ উদ্দিনের মতো করে শিল্প মালিকরা নিজেদের এলাকায় একেকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেন, তাহলে আজ বাংলাদেশের কোনটি গ্রাম, কোনটি শহর তা বুঝতে কষ্ট হতো। বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেত। হবিগঞ্জের সাংবাদিকদের সাথে একটি দিন কাটাতে সায়হাম পরিবারের অন্যতম দুই পরিচালক সৈয়দ মোঃ ইশতিয়াক ও সৈয়দ মোঃ শাফকাত বিদেশ সফর বাতিল করেছেন। দীর্ঘদিন যাবত সাংবাদিকদের সাথে সময় কাটানো হয় না এমন আগ্রহ থেকে সকাল থেকেই অপেক্ষা করে আসছিলেন সৈয়দ মোঃ ফয়সল। গতকাল সকাল ১১টার দিকে যখন সায়হাম শিল্প এলাকায় হবিগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা গিয়ে পৌছেন তখন সৈয়দ মোঃ ফয়সল, তার দুই পুত্র সৈয়দ মোঃ ইশতিয়াক ও সৈয়দ মোঃ শাফকাত সকলকে অভ্যর্থনা জানান। সৈয়দ মোঃ ইশতিয়াক প্রথমেই সাংবাদিকদের নিয়ে যান তার নেতৃত্বাধীন মিল কারখানায়। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান বিশাল কর্মযজ্ঞ। পরে সৈয়দ মোঃ ফয়সল সাংবাদিকদের নিয়ে যান তাদের বিশাল বাড়িতে। যেখানে রয়েছে ফুল ও ফলের বাগান। সাংবাদিকদের নিয়ে এক সাথে দুপুরের খাবারে অংশ গ্রহনের সময় বয়োবৃদ্ধ শিল্পপতি সৈয়দ মোঃ ফয়সল প্রায় প্রত্যেক সাংবাদিকের নাম ধরে ধরে খাবারের খোজ খবর নেন। দুপুরের পর সৈয়দ মোঃ ইশতিয়াক নিয়ে যান তার নেতৃত্বাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে। দুই ঘন্টারও বেশি সময় ঘুরে ঘুরে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য কর্মযজ্ঞ দেখিয়ে তিনি জানালেন- আসলে এক দুই দিনে সবকিছু দেখানো সম্ভব নয়। হাতের ইশারায় এদিক ওদিক দিয়ে তিনি জানান দিলেন আরও অনেক কিছু আছে, যা সময়ের অভাবে দেখানো, বুঝানো সম্ভব হচ্ছে না। সর্বশেষ তিনি নিয়ে গেলেন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পানি কিভাবে পরিশোধিত করা হয় তা দেখানোর জন্য। জানালেন প্রতি ৩ মাস পরপর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিশোধিত পানি পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। যেহেতু আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানী মুখী সেহেতু পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রতি মাসে তা পরীক্ষা করা হয়। শুধু তাই নয় বৈদেশিক ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক এবং আমাদের নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিদিন দুইবার করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পানি পরিশোধিত হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হয়। এর আপডেটও জানাতে হয়।

Rate This

Average rating 3.3 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!