ডিভিডেন্ড অজুহাতে কোম্পানি ডিলিষ্ট করলে কোম্পানি গুলো বিএসইসির সামনের দরজা দিয়ে ঢুকে ডিএসইর পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে।

0
(0)

দেশের শেয়ার বাজারে মাস জুড়ে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। জেড ক্যাটাগরি ও লো পেইড আপ কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি হয়ে থাকে এমন অভিযোগে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ডিএসই। এরই অংশ হিসেবে গত ৫ বছর যাবত ডিভিডেন্ড দেয়নি জেড ক্যাটাগরির এমন ১৫ টি কোম্পানিকে রিভিউ চিঠি দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

চিঠিতে কোম্পানির বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা সহ বিস্তারিত জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ডিএসইর এই রিভিউ নিউজকে কেন্দ্র করে জেড ক্যাটাগরির ওইসব কোম্পানির শেয়ারে টানা দরপতন হলেও গত কয়েকদিন যাবত এসব কোম্পানির শেয়ার টানা উত্থান হতে দেখা গেছে। এদিকে রিভিউ নিউজকে ইস্যু করে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল প্রায় প্রতিদিনই ডিএসইর বরাত দিয়ে জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদেরকে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে নিউজ প্রকাশ করে আসছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, জেডের বিরুদ্ধে যতই নেগেটিভ নিউজ আসছে জেড গুলো হু হু করে ততই বাড়ছে। এনিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন কতিপয় অনলাইন পোর্টাল কারসাজি চক্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, কেউ বলছেন অনলাইন পোর্টাল কারসাজি চক্রের মুখপাত্রে পরিনত হয়েছে, তা না হলে এত পেনিক নিউজের মধ্যে এসব কোম্পানির শেয়ার কিনছে কারা! হুমকি ধমকি, ভয়ভীতি দেখিয়ে কম মূল্যে শেয়ার গুলো হাতিয়ে নেয়ার চক্রান্ত হতে পারে মনে করে অনেকেই শেয়ার গুলো আকড়ে রেখেছেন।
আমাদের দেশের শেয়ার বাজারে এ বি জি এন এবং জেড এই ৫ ক্যাটাগরির শেয়ার রয়েছে। তারমধ্যে এবিএন এবং জেড এই ৪ ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন হতে দেখা যায়। এখানে এবিএন ক্যাটাগরির শেয়ার দুকার্যদিবসে লেনদেন সম্পন্ন করা গেলেও জেড ক্যাটাগরির শেয়ার ক্যাশ টাকা দিয়ে কিনতে হয় এবং কেনার ৯ কার্যদিবসের আগে বিক্রি করার সুযোগ নেই। কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড না দিলে অথবা এজিএম না করলে কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে রুপান্তর করা হয়ে থাকে। শেয়ার বাজারে যারা বিনিয়োগ করেন, শেয়ার বাজার যে ঝুকিপূর্ন তা জেনে বুঝেই বিনিয়োগ করে থাকেন। এবিএন ক্যাটাগরিতে দুদিনের ঝুকি নিয়ে লেনদেন করলেও জেড ক্যাটাগরিতে যারা লেনদেন করেন তারা ৯ কার্যদিবসের ঝুকি নিয়ে থাকেন। এমনিতেই ঝুকিপূর্ন শেয়ার তার উপর লেনদেন সম্পন্ন করতে ৯ কার্যদিবস রেখে আরো ঝুকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এ যেন মরার উপর খরার ঘা! এতকিছুর পরেও জেড ক্যাটাগরির শেয়ার কেনাবেচা নিষিদ্ধ নয় বলেই বিনিয়োগকারীরা কিছু লাভের আশায় ঝুকির উপর মহা ঝুকি নিয়ে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার কেনাবেচা করছেন। ঝুকিপূর্ন জেনে আইনের মধ্যে থেকেই যেহেতু জেড ক্যাটাগরির ওইসব শেয়ার কিনছেন এখানে সতর্কতার নামে বারবার নেতিবাচক নিউজ দিয়ে দরপতন ঘটানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। গুজব ছড়িয়ে শেয়ারের দর বাড়ানো যদি অপরাধ হতে পারে, কোম্পানির প্রকাশিত সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া নেতিবাচক নিউজ দেয়া কি অপরাধ নয়? ৯৬ সালের শেয়ার কারসাজির বিচারের কথা স্বরন রেখে মনে রাখতে হবে যে,আইনের ঊর্ধ্বে কেউই নয়। ৯৬ বিচার যদি হতে পারে তাহলে ধারাবাহিকভাবে একদিন সবকিছুর যে বিচার হবে না তা অবিশ্বাস করা বোকামি ছাড়া কিছুই না। ২০১০-২০১২ সালের পতনে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারীর প্রাণ গেছে।শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে লোকসানে পড়ে হতাশ হয়ে আত্বাহুতি দিয়েছে তাই এই দায় তার নিজেরই কিন্তু কোনো কোম্পানি ডিলিষ্ট করার কারণে যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে এ দায়ভার কার?
কোম্পানি লিষ্টিং হতে প্রথমে স্টক এক্সচেঞ্জ গুলো বিএসইসির কাছে সুপারিশ করে থাকে, তাদের সুপারিশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসি চুরান্ত অনুমোদন দিয়ে থাকে। তারপর বাজারে শেয়ার ছেড়ে আইপিওর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা কোম্পানি গুলো তুলে নেয়। পরে কোম্পানি বন্ধ করে ঘটিবাটি বিক্রি করে দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও তো যে শেয়ার গুলো বাজারে ছাড়ছে সেগুলো বিনিয়োগকারীদের কারো না কারো হাতে থাকবেই! ডিলিষ্ট করলে বিনিয়োগকারীদের চরম ক্ষতি হবে, বাজারের টার্নওভার কমে বাজারের ক্ষতি হবে কিন্তু কোম্পানি গুলোর লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না। কারণ ডিলিষ্ট করলে কোম্পানি গুলো স্বাধীন হয়ে যাবে, তাদের আর কোনো দায়দায়িত্ব থাকবে না। কোম্পানির পরিচালকদেরকে শাস্তির আওতায় না এনে কোনো প্রকার জবাবদিহিতা ছাড়া যদি ডিলিষ্ট করা হয় তাহলে যেসব কোম্পানি প্রতিবছর ডিভিডেন্ড দেয় তাদের অনেকেই ডিলিষ্ট হওয়ার জন্য উৎসাহী হয়ে ডিভিডেন্ড দেয়া বন্ধ করে দিতে পারে। পরে টক বাছতে গা উজার অবস্থা হতে পারে। শুধু তাই নয়, ডিলিষ্ট সংস্কৃতি চলতে থাকলে নতুন নতুন কোম্পানি গুলো লিষ্টেডই হবে টাকা লুটে নিয়ে ডিভিডেন্ড না দিয়ে ডিলিষ্ট হওয়ার জন্য। প্রতারক কোম্পানি গুলোর স্লোগান হতে পারে ” আইপিওর মাধ্যমে বিএসইসির সামনের দরজা দিয়ে ঢুকে ৫ বছর ডিভিডেন্ড না দিয়ে ডিএসইর পেছনের দরজা দিয়ে ডিলিষ্টের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবো “। শেয়ার বাজারের ভিন্ন ভিন্ন বিনিয়োগকারীর ভিন্ন ভিন্ন মত, ভিন্ন ভিন্ন কৌশল। এখানে কেউ ক্যাটাগরি দেখে, কেউ সেক্টর দেখে,কেউ ইপিএস পি ই দেখে, কেউ টেকনিক্যাল এনালাইসিস করে, কেউ ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস করে আবার কেউ নিউজ নির্ভর বিনিয়োগ করে। যার যা ভাল লাগে সে সেটাই বাই সেল করে।বাজারের বিনিয়োগকারীদের এমনও কিছু লোক আছে যারা লো পেইড বা জেড ছাড়া কিছুই কিনে না,ঠিক তেমনি এমন বিনিয়োগকারীও আছে যারা ব্যাংক, ফিন্যান্স ছাড়া কিছুই কিনে না। এখন কেউ যদি জোর করে চাপিয়ে দেয় যে, ব্যাংক ফিন্যান্স কিনতে পারবে না লো পেইড কিনতে হবে, বি ক্যাটাগরি কিনতে পারবে না এ ক্যাটাগরি কিনতে হবে! তাহলে এমন বাজারে কি স্বাধীনভাবে বিনিয়োগ করতে পারবে! এমন বাজারে কি শৃঙ্খলা বজায় থাকবে? জেড ক্যাটাগরি কিনতে নিরুৎসাহিত করার জন্য ক্যাশ টাকা দিয়ে কেনা এবং ৯ কার্যদিবসে ম্যাচুরেট হওয়া এটাই যথেষ্ট। ডিভিডেন্ড দেয় না! বিনিয়োগকারীরাতো
জানেই যে এই কোম্পানি ডিভিডেন্ড দিবে না! জেনে বুঝেই তো তাদের টাকা তারা বিনিয়োগ করে, এ নিয়ে সতর্কতার নামে এত হুলুস্থুল করার কি যৌক্তিকতা আছে। সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে ” ধুমপান বিষপান” ধুমপান ক্যানসারের কারণ ” ধুমপান মৃত্যু ঘটায়, ধুমপান ফুসফুসে ক্যানসারের কারণ,এসব লেখা পড়ে যেমন যেনে বুঝেই ধুমপান করে তেমনি জেড ক্যাটাগরির শেয়ার অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন জেনেই বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করে থাকে। জেড ক্যাটাগরি কোনো ফিটনেস বিহীন যান বাহন নয় যে রোডে চলতে না দিলে গাড়ির মালিক ছাড়া কারো ক্ষতি হবে না,জেড ক্যাটাগরি শেয়ারের সাথে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী সম্পৃক্ত। জেড ক্যাটাগরির শেয়ার ডিলিষ্ট করলে এর নেতিবাচক প্রভাব সার্বিক বাজারে পড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Rate This

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!