টেকনিক্যাল এনালাইসিস টিউটোরিয়াল পার্ট-১৩ ট্রেন্ড লাইন শেষ অংশ এবং চ্যানেল

0
(0)

TMPDOODLE1457197738282Technical Analysis – 13
(Trend line Last Part & Channel)

গত টেকনিক্যাল এনালাইসিস আর্টিকেলে আমরা ট্রেন্ড লাইন প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজ আমরা মাল্টিপল ট্রেন্ড লাইনস ব্যবহার, সাপোর্ট যখন রেজিস্টান্স হয়ে যায় এবং চ্যানেল নিয়ে আলোচনা করব। মাল্টিপল ট্রেন্ড লাইনস
ব্যবহারঃ বেসিক ট্রেন্ড লাইন ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আপনি নিজেই আপনার ট্রেডের প্রয়োজনে একাধিক ট্রেন্ড লাইন ব্যবহারের প্রয়োজনবোধ করবেন। মাল্টিপল ট্রেন্ড লাইন ব্যবহার করে ট্রেড করতে গেলে আপনার নির্বাচিত শেয়ারটি কোন ট্রেন্ডে আছে তা বুঝতে ট্রেন্ড লাইনের উপর দক্ষতার প্রয়োজন হয়। সাধারণত মাল্টিপল ট্রেন্ড লাইন ডে ট্রেডাররা ব্যবহার করে থাকেন। ইনভেস্টররা লং টার্ম ট্রেন্ড লাইন ব্যবহার করে থাকেন। শেয়ারের সু ইং এ যেসব ট্রেডাররা ট্রেড করেন তারা শর্ট টাইম ট্রেন্ড লাইন ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। Suport যখন রেজিস্টান্স হয়ে যায়ঃ এই ব্যাপারটা সেইসব শেয়ারের ক্ষেত্রেই হয় যখন শেয়ারের দাম বাড়ার র্যালি শেষ হয়ে যায়। অর্থাৎ একসময় যেই ট্রেন্ড লাইন শেয়ারের আপ ট্রেন্ড নির্দেশ করছিল এবং সাপোর্ট দিচ্ছিল তা শেয়ারের সাপ্লাই বেশি হয়ে যাবার কারণে রেজিস্টান্স হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় শেয়ারটি/গুলো স্ট্রং ডাউন ট্রেন্ডে চলে যায়। যারা শেয়ারের ট্রেন্ড লাইন বুঝেন না তারা উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে শেয়ারের আচমকা দরপতনে দিশেহারা হয়ে যান। তারা তাদের সমস্ত পুঁজি দিয়ে আরও কম মূল্যে শেয়ার কিনে অ্যাভারেজ করে দাম বাড়ার আশা করেন কিন্তু দাম না বেড়ে আরও কমে যায় আর তারা তাদের ভাগ্যকে দোষ দেন। কিন্তু অন্যদিকে স্মার্ট ও সুইং ট্রেডাররা শেয়ারের ডাউন ট্রেন্ড শুরু হবার পর এর সাপোর্ট বা শর্ট টাইম ট্রেন্ড লাইন খুঁজে বের করে বিনিয়োগের অপেক্ষায় থাকেন। যখন তারা দেখেন যে শেয়ারটি একটি শর্ট টাইম সাপোর্ট পেয়েছে তখন সেই শেয়ারে বিনিয়োগ করে নিকটবর্তী রেজিস্টান্স ট্রেন্ড লাইনে বিক্রয় করে অল্প সময়ে মুনাফা তুলে নেন। স্মার্ট ও সুইং ট্রেডাররা সবসময় ট্রেন্ডের তালে তালে চলতে পছন্দ করেন।

Channel: Trend line-এর পর আজ আপনাদের টেকনিক্যাল এনালাইসিসের যে টার্ম নিয়ে আলোচনা করা হবে তা হচ্ছে চ্যানেল। চ্যানেল কি আর এর ব্যবহার কি সেসব জানার আগে চলুন আগে জেনে নেই চ্যানেল বলতে কি বুঝি। চ্যানেল বলতে আমরা কোন একটা বড় জিনিসের নির্দিষ্ট ছোট অংশ বুঝি বা নির্দিষ্ট গতিপথ, নদী পথ, রাস্তা ইত্যাদি বুঝি। স্টক মার্কেটেও টেকনিক্যাল এনালাইসিসে চ্যানেল বলতে এই রকমই বুঝায় কিন্তু একটু ভিন্নভাবে এই শব্দটার ব্যবহার হয়। আমরা আপনাদের গত Trend লাইন বিষয়ে জানিয়েছি। সেখানে ট্রেন্ড লাইনের একটা প্যাটার্ন সাইডওয়েস ট্রেন্ড লাইন নিয়ে আপনাদের বলেছিলাম যে, অভিজ্ঞ ট্রেডাররা সাইডওয়েস ট্রেন্ড লাইনে ট্রেড করতে মানা করে থাকেন। আচ্ছা মানা করেন বুঝলাম কিন্তু ট্রেড তো হয়। এই সময়ে কারা ট্রেড করে? আবার দেখা যায় শেয়ার একটা নির্দিষ্ট রেঞ্জে আপ ডাউন করে। আর তাছাড়া কিভাবে এই ট্রেন্ড লাইন আঁকতে হয় তাই তো জানি না। আপ আর লো ট্রেন্ড লাইন আঁকা তো জানলাম। এই সাইডওয়েস ট্রেন্ড লাইন কিভাবে আঁকে? চলুন, এক কাজ করি সাইডওয়েস ট্রেন্ড লাইন না এঁকে আমরা বরং এই সময়ের শেয়ারের সাপোর্ট-রেজিস্টান্স আঁকা যায় কিনা তা দেখি। ধরুন, একটা শেয়ার ২০১৫ এর ডিসেম্বর মাসের ২৪ তারিখে ৩০ টাকা মূল্যে ছিল। আজকের তারিখে এর মূল্য ৩৮ টাকা। এই ৩ মাসের দাম পর্যালোচনা করে যদি এই শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য ৪০ টাকা পাই আর সর্বনিম্ন মূল্য ৩০ টাকা হয় এবং শেয়ারটি যদি ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকার ভিতরেই আপ ডাউন করতে থাকে তাহলে খুব সহজেই বলতে পারি যে এই শেয়ারের বর্তমান সাপোর্ট ৩০ টাকা এবং রেজিস্টান্স ৪০ টাকা। তাহলে, আমরা এই শেয়ারের সাপোর্ট রেজিস্টান্স চার্টে আঁকতে পারলাম এবং শেয়ারটি বিগত ৩ মাস ধরে এই ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকার রেঞ্জের ভিতর ট্রেড হচ্ছে।ক্লিয়ার কোন (আপ/ডাউন) ট্রেন্ড দেখতে পাচ্ছি না। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জে গৎবাঁধাভাবে শেয়ারের মুভমেন্ট হচ্ছে এটা হচ্ছে শেয়ারের সাইডওয়েস ট্রেন্ড। একে সাইডওয়েস চ্যানেল বললেও ভুল হবে না। কারণ, চ্যানেল বলতে যা বুঝি এর সবকিছুই এই ট্রেন্ডে দেখা যায়। এই সাইডওয়েস চ্যানেল সাধারণত কোন শেয়ারের আপ বা ডাউন ট্রেন্ডের পর দেখা যায়। আচ্ছা, যদি সাইডওয়েস চ্যানেল থাকে তাহলে কি আপ আর ডাউন চ্যানেল নেই? অবশ্যই আছে। আপ ট্রেন্ডে আমরা শেয়ারের লো প্রাইস পয়েন্ট ধরে ট্রেন্ড লাইন আঁকি। একে আমরা সাপোর্ট বলি। যদি আমরা আপ ট্রেন্ডের হাই প্রাইস পয়েন্ট ধরে একটা সোজা ও সমান্তরাল সরলরেখা আঁকি তাহলে কি আমরা আপ ট্রেন্ডে থাকা শেয়ারের জন্য রেজিস্টান্স পাব না? তাহলে আপ ট্রেন্ডে থাকা শেয়ারের এই সাপোর্ট ও রেজিস্টান্স সরলরেখা দুটি কি একটা চ্যানেল বানাবে না? চিত্রে দেখুন। আপ ট্রেন্ডে থাকা শেয়ারের এই চ্যানেলকে অবশ্যই তাহলে আপ চ্যানেল বলা যায়। এরকম করে ডাউন ট্রেন্ডে শেয়ারের রেজিস্টান্সের পাশাপাশি সমান্তরাল করে বিপরীত দিকে একটি সাপোর্ট আঁকা হলে ডাউন চ্যানেল আঁকা হয়ে যাবে। ব্যস, হয়ে গেলো চ্যানেল শেখা। তবে সাইডওয়েস চ্যানেল খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সাইডওয়েস চ্যানেল শেষ হলেই যে কোন শেয়ারের সুস্পষ্ট আপ বা ডাউন ট্রেন্ড শুরু হয়। আজ এই পর্যন্ত, টেকনিক্যাল এনালাইসিসের পরবর্তী আর্টিকেলে আমরা Moving Average আলোচনা করব। আবহাওয়া গরম। শেয়ার বাজারও গরম। তা দুই গরম মিলিয়ে সবাই ভাল আছেন তো? আপনি কি জানেন যে আপনার ব্যক্তিত্ব এবং ব্যক্তিগত বিষয়গুলো প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আপনার শেয়ার ব্যবসায় প্রভাব ফেলে। যারা একটু ধীরস্থির প্রকৃতির (Cool) তারা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারে বিনিয়োগ করতে চান। তবে সবাই তো একরকম না (আর হবার দরকারই বা কোথায়?)। এতদিন আমরা শুধু মাত্র দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করার উপায় (যেমন- ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস) নিয়েই বেশি কথা বলেছি। তবে স্বল্পমেয়াদে শেয়ার ট্রেড করেও অনেকেই সফল হচ্ছেন। আর সেজন্যই আমরা আপনাদের কাছে টেকনিক্যাল এনালাইসিস নিয়ে এসেছি। শুরুতেই বলে রাখা ভাল, টেকনিক্যাল এনালাইসিস করতে গেলে আপনাকে জ্যামিতিক আকার প্রকারভেদ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকতে হবে। তাই ক্লাস ফাইভের বই আবারও কাজে লেগে যেতে পারে। চলুন তাহলে দেখি, টেকনিক্যাল এনালাইসিস আপনার ব্যবসায়িক সাফল্য এনে দেবার জন্য কী করতে পারে। টেকনিক্যাল এনালাইসিস কী করতে পারে?

১) স্বল্পমেয়াদে (১ থেকে ৪ সপ্তাহ) একটি শেয়ারের প্রাইস মুভমেন্ট অনুমান করতে পারবেন ।

২) এটি আপনাকে এই শেয়ার
সম্পর্কে মানুষের মনোভাব (আগ্রহ আছে, নেই) বুঝতে সাহায্য করবে ।

৩) স্বল্পমেয়াদে বাজারের ওঠা নামায় ক্ষতিগ্রস্থ হবার হাত থেকে সুরক্ষা দেবে । টেকনিক্যাল এনালাইসিস কী করতে পারেনা? ১) দীর্ঘমেয়াদে (১ বছর থেকে ৩ বছর) শেয়ার প্রাইস এর Growth/ Degrowth সম্পর্কে ধারণা করতে পারবেন না (তা করতে হলে ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস শেখা লাগবে) ।

২) টেকনিক্যাল এনালাইসি সবসময় সঠিক হবেনা (কোন কিছুই ১০০% বুলেটপ্রুফ না, তাই পাশাপাশি ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস করলে ভাল রেজাল্ট পাবেন)

৩)স্বল্পমেয়াদের প্রাইস মুভমেন্ট বুঝতে পারলেও ঠিক কখন মুভমেন্ট হবে (অর্থাৎ কোনদিন) তা জানা সম্ভব নয় । আশা করছি আপনার আশা-প্রত্যাশা ঠিকঠাক করে ফেলেছেন। চলুন তাহলে টেকনিক্যাল এনালাইসিস শেখার প্রাথমিক ধাপগুলো পার করে ফেলি

ক) Support – শেয়ার এর প্রাইস হিস্টরি থেকে দেখতে পাবেন যে একটি নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত দাম কমার পর তা আবার বাড়তে শুরু করে। এই সীমা হচ্ছে এই শেয়ারের সাপোর্ট। উদাহরণ – একটি শেয়ারের দাম গত ছয় মাসে যদি হয় ৪০, ৪৫, ৪১, ৩৭, ৪০, ৪৩ টাকা। তাহলে এই শেয়ারের সাপোর্ট প্রাইস হচ্ছে ৩৭ টাকা। কারণ এর পরেই দাম আবার বাড়া শুরু করেছে।

খ) Resistance – এটি হচ্ছে সাপোর্ট এর ঠিক বিপরীত। অর্থাৎ দাম যতটুকু বাড়ার পর শেয়ারের দাম আবার কমা শুরু হয় (অতীত প্রাইস গ্রাফ দেখুন)। আগের উদাহরণটাই নেই –দেখতে পাচ্ছেন যে Resistance হচ্ছে ৪৩ টাকা এবং ৪৫ টাকা। অর্থাৎ এই দাম এর রেঞ্জ এ আসার পর আবার কমে যাচ্ছে।

গ) Breakout – কিছু সময় আছে যখন Support/Resistance না মেনেই একটি শেয়ারের দাম বেড়ে যায় বা কমে যায় (ভয় নেই, টেকনিক্যাল এনালাইসিস আপনাকে আগেই সাবধান করে দেবে!)। এই অবস্থার নাম ব্রেকআউট।

ঘ) Reversal – প্রাইসগ্রাফ থেকে দেখা যায় অনেক সময় একটি শেয়ার যে হারে পড়েছে, পরবর্তীতে ঠিক সে হারেই আবার বেড়ে যায়। (অথবা উল্টোটা, অর্থাৎ যেভাবে বেড়েছে, সেভাবেই পড়েছে)। এই প্যাটার্নটির নাম Reversal যা যেকোনো শেয়ার বাজারে অহরহ দেখা যায়।ওপরের এই ৪টি ধারণা থেকে আপনি কিছু প্যাটার্ন ড্রয়িং শিখবেন। তবে ড্রয়িং এর ঝামেলা (!) তে যাবার আগে রেডিমেড কিছু প্যাটার্ন জেনে নিন।

১) Bullish – শেয়ারের দাম যখন উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় থাকে তাই Bullish। এ সময়ে শেয়ার বিক্রি করে ফেলুন, অথবা কিনতে চাইলে দাম পড়ার অপেক্ষায় থাকুন।(কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ!)

২) Bearish – শেয়ারের দাম যখন নিম্নগামী প্রবণতায় থাকে তাই Bearish। এ সময়ে শেয়ার কেনা ঠিক নয়, অপেক্ষা করুন দাম পড়ে Resistance এ আবার দাম বেড়ে যাওয়া শুরু পর্যন্ত।

৩) Continuation – কিছু সময় শেয়ারের দাম বাড়লে বাড়তেই থাকে (আবার পড়লে পড়তেই থাকে)। আবার দেখা যায় দাম বেড়ে গিয়ে এক জায়গাতেই আটকে আছে, অথবা পড়ে গিয়ে তলানিতেই ঠেকে আছে অনেক দিন – এই অবস্থাকেই Continuation বলে। দুঃখিত এই প্যাটার্ন পেলে কি করবেন তা আজই বলতে পারছিনা। কারণ তার আগে আরো অনেক কিছু আপনাদের কে বলতে হবে।আপনার বিনিয়োগ এবং ট্রেড শুভ হোক।
বিঃদ্রঃ যারা আমাদের টিউটোরিয়াল ভিডিও নিয়েছেন লেখা গুলো শুধু তাদের জন্য প্রকাশ করতেছি।
stockkamrul@gmail.com

Rate This

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!