টেকনিক্যাল এনালাইসিস টিউটোরিয়াল পার্ট-৮ ঃ- MACD MFI RSI সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা

0
(0)

10559688_809962612356303_7970787212348911952_n.pngTechnical Analysis 8
‘বুলিশ-বিয়ারিশ ভলিউম এবং ইন্ডিকেটর’ চার্টে যে কোন শেয়ার নিয়ে এনালাইসিস করতে গিয়ে ভলিউম, ক্যান্ডেলষ্টিকের পাশাপাশি বেশ কিছু ইন্ডিকেটরও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মূলত এইসব ইন্ডিকেটরের কাজ হল শেয়ারের overbought (অতিমুল্লায়িত) বা oversold (অবমুল্লায়িত) অবস্থান নির্দেশ করা। তবে শুধুমাত্র এইসব ইন্ডিকেটর ব্যবহার করে কোন শেয়ারের ক্রয় বা বিক্রয় সিদ্ধান্ত আপনি নিতে পারবেন না। ভলিউম, ক্যান্ডেলষ্টিক, সাপোর্ট-রেজিস্টান্স ইত্যাদি এনালাইসিস যখন আপনাকে কোন একটি শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয় করতে ভাবাবে, তখন চার্টে এইসব ইন্ডিকেটরের অবস্থান আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে আরও ভালো করে সাহায্য করবে। এইসব ইন্ডিকেটরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ইন্ডিকেটর MACD, MFI এবং RSI নিয়ে আজ আপনাদের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হবে। তবে তাঁর আগে গত সপ্তাহে আমরা আপনাদেরকে ভলিউম এর উপর প্রাথমিক ধারণা দিয়েছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা আপনাদেরকে বুলিশ-বিয়ারিশ ভলিউম কিভাবে চিনতে পারবেন এবং Volume ট্র্যাকিং নিয়ে আলোচনা করব।

Identify Bullish & Bearish
Volume: এখন কীভাবে আমরা বুলিশ এবং বিয়ারিশ ভলিউম চিহ্নিত করতে পারি। শুধু তাই নয়, আমরা এই বুলিশ ও বিয়ারিশ ভলিউম দেখে বাজারের চাহিদা ও জোগান সম্পর্কেও ধারনা পেতে পারি।

যখন আপনি দেখেন বাজারে একটি শেয়ারের দাম বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে ভলিউমও বৃদ্ধি পাচ্ছে- তার মানে কী হচ্ছে? বাজারে কি চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে? হ্যাঁ, আপনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সহজেই দিতে পারবেন, যদি আপনি ভলিউম এনালাইসিস জানেন। যেমন ধরুন, শেয়ারটির দাম বাড়ছে এবং প্রারম্ভিক এবং সমাপনী মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের পরিমাণ বেশি এবং সেই সঙ্গে ভলিউমও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা এই ভলিউমটিকে বুলিশ ভলিউম বলতে পারি। কারণ, সেই সময় বাজারে চাহিদা বেশি ছিল এবং সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়ছিল। আবার ঠিক একইভাবে যখন একটি শেয়ারের দাম কম ছিল এবং প্রারম্ভিক ও সমাপনী মূল্যের মধ্যেও পার্থক্য বেশি ছিল। কিন্তু ভলিউম আগের দিনের থেকেও বেশি ছিল। এই ভলিউমটিকে আমরা বিয়ারিশ ভলিউম বলতে পারি। তার কারণ হচ্ছে দাম কমছে, সেই সঙ্গে শেয়ারের জোগানও বাড়ছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, আস্তে আস্তে শেয়ারটির দাম কমে যাচ্ছে। তার কারণ হচ্ছে বাজারে জোগান রয়েছে বেশি, কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা বাড়ছে না। ফলে বিক্রয়ের চাপ বেশি এবং দাম কমছে। সুতরাং আমরা বুলিশ এবং বিয়ারিশ ভলিউম সহজেই চিহ্নিত করতে পারব। কিছু বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে সেই বিষয়গুলো হচ্ছে, বাজারে বিয়ারিশ ভলিউম তখনই হয়, যখন প্রোফেশনাল মানি অথবা মার্কেট মেকাররা সেই শেয়ারটি কিনতে আগ্রহী হয় না এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও চাহিদা থাকে না। একইভাবে বুলিশ ভলিউম হয়, যখন দেখা যায়, প্রোফেসনাল মানি অথবা মার্কেট মেকাররা সেই শেয়ারটি কিনতে আগ্রহী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও চাহিদা থাকে।

Volume এর সুবিধা: Volume
ট্র্যাকিং- এর ২ টি উল্লেখযোগ্য সুবিধা
নিম্নরূপঃ
১. support & resistance:
জানালায় ১টি ঢিল মারলে জানালার কাঁচ ভাঙ্গে না, কিন্তু যদি ১০০ টি ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির ঢিল মারা হয় তাহলে জানালার কাঁচ ভাঙ্গার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায়। ঠিক তেমনিভাবে, কেউ যদি কোন স্টকের ১০০ শেয়ার কিনে তাহলে তার এই ক্রয়ে সেই শেয়ারের উপর কোন প্রভাব পরবে না। কিন্তু, ১০০০ বিনিয়োগকারী যদি সেই শেয়ারটি বিভিন্ন পরিমাণে ক্রয় করেন তাহলে ১ জন বিনিয়োগকারীর ক্রয়ের তুলনায় ১০০০ বিনিয়োগকারীর ক্রয়ের পরিমাণ শেয়ারটির মূল্য বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। এই মূল্য বৃদ্ধি সাপোর্ট বা রেজিস্টান্স যেকোনো এরিয়াতে হতে পারে। দীর্ঘ বা সাময়িক ডাউনট্রেন্ডের পর সাপোর্ট এরিয়াতে ভলিউম বাড়ার সাথে সাথে শেয়ারের মূল্য বাড়লে বুঝতে হবে শেয়ারটির পূর্বের/বর্তমান নতুন সাপোর্ট লাইনে শেয়ারটির সাপোর্ট রয়েছে এবং এই শেয়ারে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করা যাবে। অন্যদিকে, যদি শেয়ারটির মূল্য ভালো ভলিউম নিয়ে রেজিস্টান্স লাইন অতিক্রম করে যায় তাহলে বুঝতে হবে মার্কেটে শেয়ারটির চাহিদা বাড়ছে এবং বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগ করতে আকৃষ্ট হচ্ছে। এই উভয় অবস্থার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেবার জন্য Volume এনালাইসিস গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২. দৈনিক ভলিউমের গড়ঃ কোন শেয়ারে বিনিয়োগের পূর্বে তার প্রতিদিনের ভলিউম অথবা ১৫-২০ দিনের দৈনিক ভলিউমের গড় নিয়ে এনালাইসিস করলে আপনি মার্কেটে শেয়ারটির অবস্থা সম্পর্কে অনেকটাই ধারণা পাবেন। কোন শেয়ারের গড় ভলিউম যত বাড়বে ততই শেয়ারটির মূল্যে তার প্রভাব পড়বে। এভাবে গড় ভলিউম এনালাইসিস করলে যেকোনো শেয়ারের accumulation বা distribution অবস্থা বেশ ভালভাবেই বুঝতে পারা যায় এবং ভবিষ্যতে শেয়ার মূল্য কোন দিকে যাবে তা অনুমান করতে সাহায্য করে। এভাবে ভলিউম এনালাইসিসের মাধ্যমে trendবোঝার জন্য এবং accumulation,distribution identify করার জন্য চর্চার দরকার। অনলাইনে কোর্স করতে ভিজিট করুন।
https://skonlinemultivision.wordpress.com/

Rate This

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!