অস্থির পুঁজিবাজার: অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

0
(0)

২০১০ সালের পর থেকে আজ অবধি বিভিন্ন সময় বাজার স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিলেও বারংবার তা পতনের বৃত্তে ঘূর্ণায়মান। মাঝে মধ্যে বাজারে কয়েকবার আশার আলো উকি মারলেও তা মিলিয়ে যেতে সময় লাগে নি। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোকসান কমার বদলে বাড়ছে। মুলত এডিআর রেশিও, গুজব, আস্থার সঙ্কট, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাংকিং খাতের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ডে-ট্রেডারের মতো আচরণ, কারসাজি চক্রের দৌরাত্ম, নির্ধারণী মহলের দায়সারা মনোভাব ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বাজারে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে না বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। পরিণতিতে পুঁজি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। আর এই দরপতনের প্রতিবাদে বিগত দিনের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। সোমবার সূচকের ব্যাপক পতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন তারা। বিক্ষোভে পুঁজিবাজারকে অনতিবিলম্বে স্থিতিশীল করার দাবি জানানো হয়।

জানতে চাইলে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ভারত হবে নাকি চীন হবে সেটি বিনিয়োগকারীদের দেখার বিষয় নয়। বিনিয়োগকারীরা চায় মার্কেট ভালো থাকুক। পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক লুকোচুরি খেলছে। চাইলে তারা এক্সপোজারের সংজ্ঞা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু বর্তমান মার্কেট পঙ্গু হয়ে গেলেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিরব ভূমিকা পালন করছে। তারা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে না বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর তলানিতে এসে ঠেকেছে। এতে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়ছেন। এমতাবস্থায় যদি বাজারকে স্থিতিশীল করা না হয় তাহলে বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে। যারা বাজার স্থিতিশীলতার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কাজ করবে আমরা তাদেরকে নীতিনির্ধারণী মহলের আসনে চাই।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০১০ সালের ধসেই বিনিয়োগকারীরা তাদের কষ্টার্জিত পুঁজি হারিয়েছে। পরবর্তীতে নীতি নির্ধারণী মহলের আশার বানীতে অসংখ্য বিনিয়োগকারী হারানো পুঁজি ফিরে পাওয়ার আশায় নতুন করে বিনিয়োগ করলে লোকসানের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এরমধ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। তবুও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের লাগাম টেনে ধরে। এতে ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে উল্টো কমিয়ে আনতে শুরু করে। এতে বাজার ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে। তারা জানান, এ বাজারের এ পরিস্থিতিতেও কারসাজি চক্রের স্বীয় স্বার্থ হাসিলের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এতে মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর তলানীতে গিয়ে ঠেকলেও বাড়ছে স্বল্পমূলধনী কোম্পানির শেয়ার দর। অথচ নীতি নির্ধারনী মহলের পক্ষ থেকে কারসাজি চক্রের অপচেষ্টা বন্ধের চেষ্টা না করে বরং বিনিয়োগকারীদের ঘাড়েই দোষ চাপানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাজারের অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারগুলো আর্থিক খাতের জন্য সময়োপযোগী হলেও পুঁজিবাজারের জন্য মোটেও সময়োপযোগী নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সার্কুলারের কারণেই একদিকে ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো হাত গুটিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগে নিশ্চুপ রয়েছে। এছাড়া কারসাজি চক্রের দৌরাত্ম প্রতিরোধে নীতি নির্ধারণী মহলের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না থাকায় সবশ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা বাজারের উপর আস্থা ধরে রাখতে পারছেন না। তারা বলেন, পুঁজিবাজারে মন্দাভাব কাটাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি কোম্পানি কর্তৃপক্ষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ায় পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো যাচ্ছে না। বিএসইসির পক্ষ থেকে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও ইতিবাচক কোনো ফল না আসায় বিনিয়োগকারীরা বাজারের ওপর আস্থা হারাতে বসেছেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়সহ তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এখনো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
সূত্র শেয়ার নিউজ

Rate This

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!